মোঃ আরাফাত সানি, টেকনাফ:

দেশের সর্ব দক্ষিণের প্রথম শ্রেণির পৌরসভা টেকনাফ। নামে প্রথম শ্রেণির হলেও নাগরিক সেবায় এটি এখন সর্বশেষ শ্রেণিতে পরিণত হয়েছে। রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে ৯টি ওয়ার্ডের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পৌর এলাকার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি- সবখানে খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। দীর্ঘদিন ড্রেন পরিষ্কার না করায় বাসা-বাড়ির ময়লা পানি রাস্তায় এসে জমে থাকে।

সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। পৌরসভার বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে পৌর শহরকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হয় পথচারী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের। (ছবি আছে)

পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল জব্বার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পৌরসভা হওয়ার পর থেকে নিয়মিত ট্যাক্স দিচ্ছি, কিন্তু সেবা পাচ্ছি না। রাস্তার বাতি জ্বলে না, মশার ওষুধ ছিটানো হয় না। পৌরসভা শুধু নামে আছে, কাজে নেই।”

৩নং ওয়ার্ডের গৃহিণী ফিরোজা বেগম জানান, “বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চলছে। পৌরসভার সাপ্লাইয়ের পানি মাসের পর মাস আসে না। বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে পানি কিনে খেতে হচ্ছে।”

শুধু অবকাঠামো নয়, পৌরসভার মূল সেবা নিতে গিয়েও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও নাগরিক সনদ নিতে দিনের পর দিন ঘুরতে হয় বলে অভিযোগ অনেকের। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

বর্তমানে টেকনাফ পৌরসভায় নির্বাচিত মেয়র নেই। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিক চৌধুরী। স্থানীয়দের প্রশ্ন, উপজেলা প্রশাসনের বিশাল দায়িত্বের পাশাপাশি পৌরসভার নাগরিক সেবা তদারকি করতে তিনি বাস্তবে কতটা সময় দিতে পারছেন?

পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা না থাকায় এই দুরবস্থা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে পৌরসভার এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জনবল সংকট ও বাজেট স্বল্পতার কারণে আমরা পুরোপুরি সেবা দিতে পারছি না।”

পৌরবাসীর দাবি, দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, নিয়মিত ময়লা অপসারণ, সড়কবাতি মেরামত ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভা অচিরেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।